Back  
Print This Document

প্রযুক্তির বিবরণ

প্রযুক্তির নাম :ফালি পদ্ধতিতে ভুট্টার সাথে মটরশুটি চাষ

বিস্তারিত বিবরণ : 
ফালি আন্তঃফসল (strip intercropping)ঃ বড় বড় ফালিতে বিভিন্ন ফসল এক সাথে আবাদ করাকে স্ট্রিপ ক্রপিং বলে। স্ট্রিপ ক্রপিং হল একটি ফলপ্রসূ কৃষি অনুশীলন যা শুধুমাত্র ক্রমবর্ধমান ফলন ছাড়াও অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে। বিশেষ করে ঢালু জমিতে, মাটির ক্ষয় কমাতে স্ট্রিপ ক্রপিং ব্যবহার করা কার্যকর প্রমাণিত হয়। সঠিকভাবে নির্বাচিত ফসলএকে অপরকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, এইভাবে ক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে। বায়ু এবং জলের ক্ষয় মোকাবেলা করে; মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে; নাইট্রোজেন স্থির করণে অংশগ্রহণ করে; পরাগায়নকারীদের আকর্ষণ করে; কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে মাটির স্বাস্থ্য এবং উর্বরতা বৃদ্ধি করে; ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ইত্যাদি। হাইব্রিড ভুট্টার সাথে আন্তঃফসল হিসেবে স্বল্প মেয়াদী খাটো আকৃতির বিভিন্ন ফসল আবাদ করা যায়। আন্তঃফসলের মত ভুট্টার সাথে ফালি পদ্ধতিতেও স্বল্প মেয়াদী খাটো আকৃতির বিভিন্ন ফসল আবাদ করা যায়। ফালি পদ্ধতিতে স্বল্প মেয়াদী সবজী যেমনঃ মটরশুটি চাষ করলে ভুট্টার ফলন তেমন একটা কমে না। উপরন্তু আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। এছাড়াও একটি ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হলেও আরেকটি ফসল পাওয়া যেতে পারে। মটরশুটি একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর শীতকালীন সব্জী। লিগিউম জাতীয় ফসল হওয়ায় আন্তঃফসল হিসেবে আবাদকৃত মটরশুটি বায়ুমন্ডলীয় নাইট্টোজেন রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে গাছের শিকড়স্থ নডিউলে জমা করে এবং পরে তা মাটিতে যোগ হয় এতে মাটির গুণাগুণ ও উর্বরাশক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। নাইট্রোজেন ছাড়াও মাটিতে জৈব কার্বন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমানও বৃদ্ধি পায়। এ পদ্ধতিতে ভুট্টার দানাতেও একক ভুট্টা বপন পদ্ধতির চেয়ে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমানও বৃদ্ধি পায়।
উৎপাদন প্রযুক্তি:
বিষয় বিবরণ
ফসল ভুট্রা ও মটরশুটি
মাটি সুনিষ্কাশিত বেলে দোঁআশ থেকে এটেল দোঁআশ মাটি প্রযুক্তির জন্য ভালো। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ উর্বর দোঁআশ মাটি চাষাবাদের জন্য উত্তম
জাত ভুট্টাঃ ভুট্টার যে কোনো জাত, মটরশুটিঃ বারি মটরশুটি-৩
বপন/রোপন সময় অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়।
বপন/রোপণ দুরত্ব ভুট্টাঃ সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২০ সেমি মটরশুটিঃ সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩০ সেমি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১০ সেমি
বপন/রোপন পদ্ধতি চার সারি ভুট্টার পরে আট সারি মটরশুটি এরপর আবার চার সারি ভুট্টার পরে আট সারি মটরশুটি এভাবে বীজ বপন করা হয়।
বীজের হার (কেজি/হেক্টর ভুট্টাঃ ২৫-৩০, মটরশুটিঃ ৭০-৮০

সারের পরিমাণ (কেজি/হেক্টর) :
সারের নাম ভুট্রা মটরশুটি
ইউরিয়া ৫৫০ ৫৫০
টিএসপি ২৬০ ১৬০
এমওপি ২২০ ৮৪
জিপসাম ২৬০ ৯০
জিংক সালফেট ১১
বোরন -
গোবর ১০০০০ ১০০০
সার প্রয়োগ পদ্ধতি ভুট্টা: জমি প্রস্তুতির সময় সম্পুর্ন গোবর এবং তিন ভাগের এক ভাগ ইউরিয়া এবং বাকি সকল সারের সম্পূর্ন অংশ প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া সার সমান দুই ভাগ করে এক ভাগ বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর এবং এক ভাগ ইউরিয়া বীজ বপনের ৫০-৬০ দিন পর পার্শ্ব প্রয়োগ করে সেচ দিতে হয়। মটরশুটি: শেষ চাষের সময় এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া এবং সম্পূর্ণ গোবর সহ সকল সারের সম্পূর্ন অংশ প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া সার দুই কিস্তিতে বীজ বপনের ২০ এবং ৩৫ দিন পর জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা রাখা যাবে না। জমির আর্দ্রতার উপর নিভর করে ৩/৪টি সেচ দিতে হবে। ফুল আসার সময় ও ফল বড় হওয়ার সময় জমিতে পরিমান মত আর্দ্রতা রাখতে হবে।
আগাছা দমন জমিতে আগাছার পরিমানের উপর নির্ভর করে নিড়ানী দিতে হবে। যদি আগাছা বেশি থাকে তাহলে নিড়ানী বেশি দিতে হবে।
ফসল সংগ্রহ ভুট্টাঃ বপনের ১৪৫-১৫০ দিন পর পরিপক্ক ভুট্টার মোচা সংগ্রহ করা যায়। মটরশুটিঃ বপনের ৫৫ হতে ৭৫ দিন পর্যন্ত ২/৩ বার মটরশুটির সবুজ শুটি সংগ্রহ করা যায়।
ভুট্রার সমতুল্য ফলন (টন/হেক্টর) ভুট্টা-মটরশুটিঃ ১১.৫৫, ভুট্টা-মসুরঃ ৮.৭১, ভুট্টা-খেসারীঃ ৭.৪৯, একক ভুট্টাঃ ৭.৪০

আয়-ব্যয়:
বপন পদ্ধতি মোট আয় (টাকা/হেক্টর) মোট ব্য়য (টাকা/হেক্টর) নীট মুনাফা (টাকা/হেক্টর) আয়-ব্যয় অনুপাত
ভুট্রা - মটরশুটি ফালি পদ্ধতি ১৯৭৪৫০ ৮০০০০ ১৯৭৪৫০ ২.৪৭
একক ভুট্রা ১৪৬০০০ ৯৬৫০০ ৪৯৫০০ ১.৫১


ফালি পদ্ধতিতে ভূট্রার সাথে মটরশুটি চাষের মাঠ চিত্র


প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
 
Back