Back  
Print This Document

প্রযুক্তির বিবরণ

প্রযুক্তির নাম : চলনবিল এলাকায় কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রচলিত রসুন - পাট ফসল ধারার উন্নয়ন

বিস্তারিত বিবরণ : 

ভুমিকা: বিল এলাকা বছরের অধিকাংশ সময় পানির কারনে পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে বিধায় কম উৎপাদনশীল। তবে প্রতি বছর বিল এলাকায় জমি পানিতে নিমজ্জিত থাকার কারণে পলি পড়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। উক্ত এলাকার কিছু কিছু স্থানে প্রধান ফসল ধারা হিসাবে রসুন-পাট আবাদ করে থাকে। পাটশাক বাংলাদেশের খরিফ মৌসুমের পাতা জাতীয় সবজির মধ্যে অন্যতম। পাট পাতার সবজি এবং ঔষধি মূল্য উভয়ই রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই, রোগ নিরাময়ের জন্য ভেষজ ঔষধ হিসাবে পাট পাতা ব্যবহার করা হচ্ছে। রসুনের মূলতঃ স্থানীয় জাত ব্যবহার করা হয়। যার ফলন তুলনামুলকভাবে কম বিধায় উন্নত নতুন জাত ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চলনবিল এলাকায় ফসলের উৎপাদনশীল বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় রসুনের জাতের পরিবর্তে কৃষি গবেষণা উদ্ভাবিত রসুনের জাত চাষের মাধ্যমে ফসল ধারার উন্নয়ন করা সম্ভব। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তির বিবরণ: রসুন-পাট ফসলধারা
জাত ও বীজের হার: রসুনের জন্য বারি রসুন-৩/ রসুন-৪ এবং পাটের জন্য ইন্ডিয়ান তোষা ব্যবহার করতে হবে। বীজ হার রসুন ও পাটের জন্য যথাক্রমে হেক্টর প্রতি ৪০০ কেজি এবং ৬ কেজি। রসুন নভেম্বরের ১ম থেকে ২য় সপ্তাহে এবং পাট এপ্রিল এর ১ম সপ্তাহে রোপন করতে হবে।
বপন/রোপন দূরত্ব : রসুনের জন্য ১৫ সেঃমিঃ × ৮ সেঃমিঃ এবং পাট ছিটিয়ে বোনা।
সারের পরিমান (কেজি/হেক্টর):
রসুন: হেক্টর প্রতি ১০০ - ১৫২ - ১৬৫ - ২০ - ৪ কেজি হারে ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি-জিপসাম- জিংক সালফেট দিতে হবে।
পাট: হেক্টর প্রতি ১১০ - ১৫ - ৭৫ - ২৭ - ৪ কেজি হারে ইউরিয়া-টিএসপি-এমওপি-জিপসাম- জিংক সালফেট দিতে হবে।
সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
রসুন: রসুনে ইউরিয়া সারের তিন ভাগের এক ভাগ এবং অন্যান্য সকল সার জমি শেষ চাষের সময় এবং বাকি ইউরিয়া সমান দুই ভাগে রোপনের ৩০ ও ৫৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
পাট: পাটের ক্ষেত্রে অর্ধেক ইউরিয়া এবং অন্যান্য সকল সার জমি শেষ চাষের সময় এবং বাকি ইউরিয়া বপনের ৪৫ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ প্রয়োগ:
রসুন: রসুন বপনের ৪৫, ৬৫, ৮৫ ও ১০৫ দিন পর মোট চার বার সেচ দেয়া প্রয়োজন।
পাট: বপনের সময় এবং বপনের ১৫ দিন পর মোট ২ বার অবশ্যই সেচ দিতে হবে।
আগাছা দমন :
রসুন: বপনের ১ দিন পূর্বে পেন্ডিমিথিলিন গ্রুপের আগাছানাশক প্রয়োগ করে বপনের পর খড়ের মালচ দিয়ে দেয়া হয় এবং বপনের পরে মোট ২ বার হাত দিয়ে আগাছা তুলে দিয়ে দমন করা হয়।
পাট: পাটে ২য় সেচের সময় অর্থাৎ বপনের ১৫ দিন পরে একবার নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিস্কার করে দিতে হবে।
রোগবালাই ও পোকামাকড়:
রোগবালাই: রসুনে সাধারনত ব্লাইট, সফট রট, ড্যাম্পিং অফ, ডাউনি মিলডিউ এবং পাতা ঝলসানো রোগ হয়। এসব রোগ দমনের জন্য ডাইথেন এম-৪৫/রোভরাল ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করে দমন করা যায়।
পোকামাকড়: রশুন সাধারনত থ্রিপস/চুঙ্গি পোকা, রেড স্পাইডার ও মাইট দ্বারা আক্রান্ত হয়। এসব পোকা দমনের জন্য ম্যালাথিয়ন/ডেইমেক্রন/জেসিড প্রতি লিটার পানিতে ১মিলি হারে স্প্রে করে দমন করা যায়। পাটে লেদা পোকার আক্রমন হলে ভিট্রাকো প্রয়োগ করে দমন করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ :
রসুন: রসুন মার্চের শেষ সপ্তাহ পাট: জুলাই এর মাঝামাঝি
ফলন :
রসুন: ১২.০-১৩.৮ টন/হেক্টর
পাট: ২.১-২.২ টন/হেক্টর
আয়-ব্যয়:
ফসল ধারা মোট আয় (টাকা/হেক্টর) মোট উৎপাদন খরচ (টাকা/হেক্টর) নীট মুনাফা (টাকা/হেক্টর) আয় ও খরচের অনুপাত
বারি রসুন-৩-পাট ফসলধারা ৮২০৮০০ ২২৭৩২৫ ৫৯৩৪৭৫ ৩.৬১
বারি রসুন-৪-পাট ফসলধারা ৭৫৬৮০০ ২২৭৩২৫ ৫২৯৪৭৫ ৩.৩৩
ইটালি রসুন-পাট ফসলধারা ৬৫৯২০০ ২২৭৩২৫ ৪৩১৮৭৫ ২.৮৯

উপযোগিতা :বিল এলাকা
আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট :
বাংলাদেশের বিল এলাকায় শুধুমাত্র বোরো ধানের আবাদ করা হয়।
বোরো ধানের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য ফসল আবাদ করলে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তায় সহায়ক হবে। বোরো ধানের পূর্বে স্বল্প ময়াদী উচ্চ ফলনশীল রসুনের জাত আবাদ করলে রসুন-পাট ফসল ধারার উন্নয়ন হবে।
স্থানীয় রসুনের জাতের পরিবর্তে কৃষি গবেষণা উদ্ভাবিত রসুনের জাত চাষের মাধ্যমে ফসল ধারার উন্নয়ন করা সম্ভব। ,br>এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বোরো ধানের তুলনায় রসুনের কম পানির প্রয়োজন হয়। তাই ভূগর্ভস্থ পানির স্বল্প ব্যবহার বা স্বদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে চলনবিল/বিল এলাকার কৃষিতাত্ত্বিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা ও নিবিড়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
যোগাযোগ: কৃষিতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর


প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
 
Back