Back  
Print This Document

প্রযুক্তির বিবরণ

প্রযুক্তির নাম :চিয়া চাষে কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা

বিস্তারিত বিবরণ : 

ভুমিকা : চিয়া (Salvia hispanica L.) একটি ভেষজগুন ও পুষ্টিমান সমৃদ্ধ ফসল। চিয়ার আদি বাসস্থান মেক্সিকো ও গুয়াতিমালা। প্রচলিত বিভিন্ন দানাজাতীয় ফসল যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ওট ও বার্লির তুলনায় চিয়া বীজে প্রোটিন, লিপিড ও শর্করার পরিমান উল্লেখযোগ্য পরিমানে বেশি বলে সাম্প্রতিক সময়ে চিয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ইহা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক গ্লুটিন মুক্ত এবং উচ্চ মাত্রার ভিটামিন, মিনারেল ও এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি ফসল। চিয়া বীজে প্রেটিন ১৫-২৫%, লিপিড ৩০-৩৩%, ফাইবার ১৮-৩০% এবং শর্করা ২৬-৪১% থাকে। চিয়াতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে যা শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চিয়া বীজ শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে হজম ও কোষ্ঠ কাঠিন্য দুরীকরনে সহায়তা করে। ইহা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস, উচ্চমানের প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ।দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশী ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালংশাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশী আয়রন (লোহা), কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম, স্যামন মাছের থেকে ৮ গুণ বেশী ওমেগা-৩ ফ্যাটিএসিড প্রচুর পরিমাণে রয়েছে আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। চিয়ার গুরুত্ব ও সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষিতত্ত্ব বিভাগ চিয়ার বিভিন্ন কৃষিতাত্ত্বিক ব্যাবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করে। বিগত তিন বছরের (২০২০-২০২২) চিয়ার কৃষিতাত্বিক গবেষণায় দেখা যায় আমাদের দেশের আবহাওয়ায় চিয়া ভাল ফলন দেয় ও ফসলটি অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক।
ফসল : চিয়া
জাত ও বীজের হার : বারি চিয়া-১ চিয়া বীজ বপনের জন্য হেক্টরপ্রতি ৪.৫-৫কেজি বীজের প্রয়োজন।
মাটি : জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ দোঁআশ বা বেলে দোঁআশ মাটি বেগুন ও ঝাড়শীম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
বপন ও রোপন সময় : চিয়া বীজ ০১ নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর বপন করলে ভালো ফলন দেয়। তবে পুরো নভেম্বর মাস বপন করা যায়। বীজ বপনের ১০৫ দিন থেকে ১১০ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়।
বপন দূরত্ব : ছিটিয়ে ও সারি উভয় পদ্ধতিতেই বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে আন্ত:পরিচর্যা করতে সহজ হয় । সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দুরত্ব ৩০ সে. মি.
সারের বর্ণনা (কেজি/হেক্টর) : ইউরিয়া-১৩০, টিএসপি ২০০, এমওপি ১০০, জিপসাম ৪৫ ও গোবর সার ৫০০
সার প্রয়োগ পদ্ধতি : অর্ধেক ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের সবটুকু শেষ চাষের সময় মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সার বপনের ৩০ দিনের মধ্যে সারিতে পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।
বপন দুরত্ব ও বপন পদ্ধতি : ছিটিয়ে ও সারি উভয় পদ্ধতিতেই বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে আন্তঃপরিচর্যা করতে সহজ হয়। সারিতে বপনের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দুরত্ব ৩০ সে.মি.
আগাছা ব্যবস্থাপনা : জমিতে প্রয়োজনীয় নিড়ানী দিয়ে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। প্রতিটি সেচের পরে মাটির উপরিভাগের চটা ভেঙ্গে দিতে হবে যাতে মা্টিতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। প্রয়োজনীয় নিড়ানী দিলে মাটিতে শিকড়ের বৃদ্ধি ভাল হয়।
সেচ প্রয়োগ : ২-৩ টি হালকা সেচের প্রয়োজন হয়। বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর ১ম এবং ৫০-৫৫ দিন পর ২য় সেচ (গাছে ফুল আসার সময়) দিতে হবে। প্রতি সেচে খুব অল্প পরিমান পানি প্রয়োগ করতে হবে। তবে চিয়া বিনা সেচেও চাষ করা সম্ভব।
ফসল সংগ্রহ : গাছের ফল যখন শুষ্ক খড়ের রং ধারণ করে ও গাছের পাতা শুকিয়ে যায় তখন গাছ গুলোকে কেটে শক্ত মাটিতে বা মাটির উপর পলিথিন বিছিয়ে অথবা পাকা মেঝেতে ছড়িয়ে রেখে শুকাতে হবে। তারপর রৌদ্রোজ্জল দিনে লাঠি দিয়ে গাছের ফল গুলোকে পিটিয়ে মাড়াই করতে হবে। ঝাড়াই করার জন্য কুলা ব্যবহার করা উত্তম। বীজ বপনের ১০৫ দিন থেকে ১১০ দিন পর ফসল সংগ্রহ করা যায়।
ফলন : ১০০০-১২০০ কেজি/হেক্টর
উপযোগীতা : গাজীপুর, দিনাজপুর, জামালপুর, যশোর, রংপুর, হাটহাজারী দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের খরা প্রবন রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চল চিয়া চাষ করা যেতে পারে। অনাবাদী ও পতিত জমি উঁচু থেকে মাঝারী উঁচু এবং চরাঞ্চলে
আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট :
 চিয়া বীজ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ করা যায় এবং এতে রোগ পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন হয় না।
 চিয়া বীজ দেহের ওজন কমাতে সহায়তা করে
 চিয়া বীজ ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়
 চিয়া একটি উচ্চ মূল্যের ফসল বিধায় আমাদের দেশের কৃষকরা চিয়া চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।
 চিয়া বিভিন্ন ফসল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যেমন চিয়া -ভুট্রা - আমন / চিয়া -মুগডাল - আউশ - আমন।

চিয়া চাষে কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনা


প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
 
Back