কৃষি প্রযুক্তি ভাণ্ডার
প্রযুক্তির বিবরণ
প্রযুক্তির নাম :উঁচু বরেন্দ্র এলাকায় বারি সরিষা-১৮ এর উৎপাদন কলাকৌশল
বিস্তারিত বিবরণ :
বিস্তারিত বিবরণ: বরেন্দ্র ভূমি (Barind Tract) বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক। প্রায় ৭,৭২৭ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বরেন্দ্র ভূমি বিস্তৃত। বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্র ভূমি বিস্তৃত। উঁচ বরেন্দ্র ভূমি খরা প্রবন এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। এই মাটি লালচে বাদামী বর্ণের, জারিত, আঠালো এবং শক্ত। এটি একটি বন্যামুক্ত এলাকা ও এই অঞ্চলের জলবায়ু শষ্ক-আর্দ্র। শষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাতের চেয়ে বাষ্পীয়-প্রস্বেদন বেশী হয় বলে পানির ঘাটতি দেখা যায়। পানির স্বল্পতা অত্র এলাকার কৃসি উৎপাদনশীলতা ও মানুষের জীবনযাত্রার প্রধান অন্তরায়। সেচের অভাবে এলাকায় সব জমিতে বোরো ধান আবাদ করা সম্ভব হয় না। তাই এ এলাকায় দীর্ঘময়াদী বারি সরিষা-১৮ চাষের যথেষ্ঠ সুয়োগ রয়েছে। বারি সরিষা-১৮ বিঘাপ্রতি ফলন সাড়ে আট মণ।
উৎপাদন প্রযুক্তি:জমির প্রকারভেদে ৩-৪ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে। সরিষা বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বোনা হয়। সারি করে বুনলে সার, সেচ ও নিড়ানী দিতে সুবিধা হয়। সারি থেকে সারির দুরত্ব ৩০ সেমি রাখতে হবে। বারি সরিষা-১৮ এর বীজ মধ্য-আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস ( অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর ১ ম সাপ্তাহ ) বারি সরিষা-১৮ বপনের উপযোগী সময়। দেরিতে বপন করলে ফলন অনেকটা কমে যায়। বারি সরিষা-১৮ এর ফলন বেশী হওয়ায় বারি সরিষা-১৪ অপেক্ষা সারের পরিমাণ বেশি প্রয়োজন হয়। এটি চাষের জন্য নিম্নোক্ত হারে সার ব্যবহার করতে হবে।
ইউরিয়া সার অর্ধেক ও অন্যান্য সার বপনের আগে এবং বাকি অর্ধেক ইউরিয়া গাছে ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হয়। সার উপরি প্রয়োগের সময় মাটিতে রস থাকা দরকার। সাধারণত: বারি সরিষা-১৮ হেক্টর প্রতি ৭ কেজি বীজের প্রয়োজন। ১৫-২০ দিনের মাথায় একবার নিড়ানো ও অতিরিক্ত গাছ তুলে পরিস্কার করে দিতে হয়। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে ( গাছে ফুল আসার আগে) প্রথম সেচ এবং ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে (ফল ধরার সময়) দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে। বপনের সময় মাটিতে রস কম থাকলে একটি হালকা সেচ দিতে হয়। বারি সরিষা-১৮ এর ফলগুলি হলুদ রং হলে ফসল সংগ্রহ করা যায়।
বৈশিষ্ট্য সমূহ: বারি সরিষা-১৮ ব্রাসিকা ন্যাপাস প্রজাতির অন্তর্গত একটি সরিষার জাত। এ জাতটি বাংলাদেশ উদ্ভাবিত প্রথম ক্যানোলা বৈশিষ্ট্যের জাত। এই জাতের সরিষার গাছের উচ্চতা ৮৮-১২৬ সেমি। বপন হতে কর্তন পর্যন্ত সময়কাল ৯৫-১০০দিন। সমগ্র বাংলাদেশে চাষ উপযোগী এ জাতের তেলে ইরুসিক এসিডের পরিমাণ ৩৫%-৪০% । পরিমাণ মতো সার ও সেচ প্রয়োগে এ জাত ২.০-২.৫ টন/হেক্টর ফলন দেয়। এ জাতের তেলের পরিমাণ ৪০%-৪২%্ পুষ্টির গুণাগুণ বিবেচনায় বাণিজ্যিকভাবে সরিষা চাষের ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত এ জাত বাংলাদেশে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
বিস্তারিত বিবরণ :
বিস্তারিত বিবরণ: বরেন্দ্র ভূমি (Barind Tract) বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক। প্রায় ৭,৭২৭ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বরেন্দ্র ভূমি বিস্তৃত। বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা জুড়ে বরেন্দ্র ভূমি বিস্তৃত। উঁচ বরেন্দ্র ভূমি খরা প্রবন এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। এই মাটি লালচে বাদামী বর্ণের, জারিত, আঠালো এবং শক্ত। এটি একটি বন্যামুক্ত এলাকা ও এই অঞ্চলের জলবায়ু শষ্ক-আর্দ্র। শষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাতের চেয়ে বাষ্পীয়-প্রস্বেদন বেশী হয় বলে পানির ঘাটতি দেখা যায়। পানির স্বল্পতা অত্র এলাকার কৃসি উৎপাদনশীলতা ও মানুষের জীবনযাত্রার প্রধান অন্তরায়। সেচের অভাবে এলাকায় সব জমিতে বোরো ধান আবাদ করা সম্ভব হয় না। তাই এ এলাকায় দীর্ঘময়াদী বারি সরিষা-১৮ চাষের যথেষ্ঠ সুয়োগ রয়েছে। বারি সরিষা-১৮ বিঘাপ্রতি ফলন সাড়ে আট মণ।
উৎপাদন প্রযুক্তি:জমির প্রকারভেদে ৩-৪ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে। সরিষা বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বোনা হয়। সারি করে বুনলে সার, সেচ ও নিড়ানী দিতে সুবিধা হয়। সারি থেকে সারির দুরত্ব ৩০ সেমি রাখতে হবে। বারি সরিষা-১৮ এর বীজ মধ্য-আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস ( অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর ১ ম সাপ্তাহ ) বারি সরিষা-১৮ বপনের উপযোগী সময়। দেরিতে বপন করলে ফলন অনেকটা কমে যায়। বারি সরিষা-১৮ এর ফলন বেশী হওয়ায় বারি সরিষা-১৪ অপেক্ষা সারের পরিমাণ বেশি প্রয়োজন হয়। এটি চাষের জন্য নিম্নোক্ত হারে সার ব্যবহার করতে হবে।
| সারের মাত্রা | হেক্টরে সারের পরিমাণ (কেজি) | বিঘায় সারের পরিমাণ (কেজি) |
| ইউরিয়া | ২২৫-২৬০ | ৩০-৩৫ |
| টিএসপি | ১৫০-১৭০ | ১৮-২০ |
| এমওপি | ১০০-১৩০ | ১৫-১৭ |
| জিপসাম | ১৫০-২০০ | ২০-২৫ |
| জিংক সালফেট | ৮ | ১.০ |
| বরিক এসিড | ১০ | ১.৫ |
বৈশিষ্ট্য সমূহ: বারি সরিষা-১৮ ব্রাসিকা ন্যাপাস প্রজাতির অন্তর্গত একটি সরিষার জাত। এ জাতটি বাংলাদেশ উদ্ভাবিত প্রথম ক্যানোলা বৈশিষ্ট্যের জাত। এই জাতের সরিষার গাছের উচ্চতা ৮৮-১২৬ সেমি। বপন হতে কর্তন পর্যন্ত সময়কাল ৯৫-১০০দিন। সমগ্র বাংলাদেশে চাষ উপযোগী এ জাতের তেলে ইরুসিক এসিডের পরিমাণ ৩৫%-৪০% । পরিমাণ মতো সার ও সেচ প্রয়োগে এ জাত ২.০-২.৫ টন/হেক্টর ফলন দেয়। এ জাতের তেলের পরিমাণ ৪০%-৪২%্ পুষ্টির গুণাগুণ বিবেচনায় বাণিজ্যিকভাবে সরিষা চাষের ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত এ জাত বাংলাদেশে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।